সত্তরের গীতিকারের জাদু যা আজও বাঙালিকে মুগ্ধ করে দেয় …

    12

    এমন কিছু গান আছে, যা যুগের বেড়াজাল পেরিয়ে খুব সহজেই সবার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়।বাংলার স্বর্ণযুগের এইসব গানগুলোর সাথে কারোর আলাদা করে পরিচয় করাতে হয়না। ছোটবেলা থেকে দাদুর রেডিও, পাড়ার পূজা প্যান্ডেলে গানগুলো শুনতে শুনতে বড় হয়েছি আমরা বাঙালিরা। বাংলার সেই গানের ডালিতে একবার ফিরে দেখা যাক।

    বাংলার সোনালী যুগের গান বলতেই , প্রথমেই যেই গলাটা কানে ভেসে আসে, তা হল মান্না দে।কফি হউসের আড্ডা হোক কিংবা জলসাঘর, একাধারে মাতিয়ে রেখেছিলেন বাঙালির এই ভজহরি মান্না।সত্যি, ‘হয়তো তোমারই জন্যে’ বাঙালি এরকম গানপাগল হয়েছে।

    মূলত পাড়ার পূজা প্যান্ডেলে আরতি মুখার্জীর মিষ্টি রোমান্টিক কণ্ঠটির সাথে প্রথম আলাপ ঘটে। ‘তখন তোমার একুশ বছর’ গানটি ফেলে আসা কৈশোর জীবনের রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে যায়।

    মেঘলা দিনে মন যখন একলা থাকতে চায়না, বাঙালি তখন হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় এর গলা শুনতে চায়।চৈত্র হোক কিম্বা ফাগুনমাস, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর গান প্রানে হেমন্তের হাওয়ার দোলা দিয়ে যায়।

    পুজোর সকালগুলো যেই কণ্ঠ দিয়ে শুরু হয়, তাহলো সন্ধ্যা মুখার্জী। ‘এসো মা’ গানটি আজও বাঙালির অন্যতম সেরা পূজার গান।এছাড়াও বাঙালির অন্যতম সেরা প্রেমের গান ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ ওনার গলায়।

    যে গলা প্রাণে খুশির বান ডেকে আনে, উনি হলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।ওনার গান সংগীত প্রেমীদের নীল নির্জন সুরের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

    যার কণ্ঠ শুনে মন চায় সুরের জগতে সাধু বাঙালি নয় , আপামর সংগীতপ্রেমী সুরজগতে হারিয়ে যায়, উনি হলেন লতা মঙ্গেশকর।ভক্তিমূলক ‘মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে’ হোক কিংবা ‘বলছি তোমার কানে কানে’- এর মতন রোমান্টিক গান , সব রকম গানেই এক আলাদা মাত্রা এনে দিত লতাজির  সুরেলা আওয়াজ।

    কিছু কণ্ঠ আছে, যা কখনও একঘেয়ে হয়ে ওঠেনা। বাঙালির সন্ধ্যের আড্ডা, ফাংশান,অনুষ্ঠান  ইত্যাদি মোহময় করে তুলত আশা ভোঁসলে। ‘লক্ষ্মীটি দোহাই তোমার’,‘আসব আরেকদিন আজ যাই’, ‘ফুল কেন লাল’ গানগুলো আজ বাঙালির মন ছুঁয়ে যায়।

    বাংলার চিরনতুন গানের ডালির কথা বলতে শুরু করলে শেষ করা যায়না।আপনার পছন্দের গায়ক কিম্বা গায়িকার কথা আমাদের জানান।

    Comments

    comments

    SHARE